Tag: কফি পানের উপকারিতা
25

Categories: Health

আমাদের দেশে কফির পরিবর্তে চায়ের প্রচলন অনেক বেশি। সকালে ঘুম থেকে উঠে, কিংবা বিকেলের জড়তা কাটাতে অথবা আড্ডায় আমাদের চা ছাড়া চলে না। অনেকের আবার কফি পানেরও অভ্যাস রয়েছে।

পানির সাথে ফুটিয়ে রান্না করা “কফি বীজ” নামে পরিচিত এক প্রকার বীজ পুড়িয়ে গুঁড়ো মিশিয়ে কফি তৈরি করা হয়। এই বীজ কফি চেরি নামক এক ধরনের ফলের বীজ। প্রায় ৭০টি দেশে এই ফলের গাছ জন্মে। সবুজ কফি বিশ্বের সব থেকে বেশি বিক্রীত কৃষিপণ্যের মধ্যে একটি। কফিতে ক্যাফেইন নামক এক প্রকার পদার্থ রয়েছে। ৮ আউন্স কফিতে প্রায় ১৩৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে। এখন, চায়ের পর কফি বিশ্বের অত্যধিক জনপ্রিয় পানীয়।

Esodeal কফি হাউসে আপনাকে স্বাগতম

আমরা অনেকেই মনে করে থাকি সকালে চায়ের বদলে কফি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু এটি অনেক বড় একটি ভুল ধারণা। চায়ের তুলনায় কফির ক্যাফেইন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো। প্রতিদিন ১ কাপ কফি পান করলে আমরা মুক্ত থাকতে পারি অনেক ধরণের শারীরিক সমস্যা। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক প্রতিদিন ১ কাপ কফি পানের স্বাস্থ্য উপকারিতা

আমাদের কফির কালেকশন দেখতে ক্লিক করুন এখানে

লিভার সুস্থ রাখেঃ

কফি লিভারের জন্য ভালো একটি পানীয়। কফির ক্যাফেইনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারকে পরিস্কার করতে সাহায্য করে। যারা মদ্যপান করেন তাদের লিভারের কর্মক্ষমতা অনেক কমে যায়। তারা নিয়মিত মদ্যপানের পরিবর্তে সকালে কফি পান করা শুরু করলে লিভারের কর্মক্ষমতা ফিরে আসবে।

মানসিক চাপ দূরঃ

কফির ক্যাফেইন আমাদের মস্তিস্কের চাপ অনেকটা দূর করে। যারা প্রতিদিন সকালে ১ কাপ কফি পান করেন তারা অন্যান্যদের তুলনায় বেশ কম মানসিক চাপে ভুগে থাকেন। এছাড়াও মানসিক চাপে থাকলে এক কাপ কফি আপনার মস্তিষ্ককে রিলাক্স হতে অনেক বেশি সাহায্য করবে।

ক্যানসার রুখতেঃ

গবেষণায় দেখা গিয়েছে কফির ক্যাফেইন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান সমূহ দেহে ক্যানসারের কোষ বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে বেশ সহায়ক। যারা মনে করেন কফি স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ তাদের ভুল ধারনা ভেঙে দিনে অন্তত এক কাপ কফি খাওয়ার অভ্যাস করা উচিৎ।

ডায়বেটিস প্রতিরোধ করেঃ

কফি পান করতে চাইলে ব্ল্যাক কফি পান করাটাই স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ভালো। ব্ল্যাক কফি দেহের সুগারের মাত্রা কমাতে বেশ সহায়তা করে এবং ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে। যারা প্রতিদিন ১ কাপ ব্ল্যাক কফি পান করেন তাদের ডায়বেটিসে আক্রান্তের ঝুকি কম। ডায়াবেটিস রোগী হলে সকালেই পান করুন, উপকৃত হবেন। স্মৃতিশক্তি লোপ বা অ্যালঝেইমার্স প্রতিরোধ করে

হৃদ রোগের ঝুঁকি কমায়ঃ

কফি পান হৃদ রোগের ঝুঁকি কমাতে দারুণ কার্যকর। ১৫ বছর ব্যাপী ৪১,০০০ (একচলিশ হাজার) নারীর অংশগ্রহণে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ৩ কাপ করে কফি পান হৃদরোগেরর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম। পুরুষদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। কফিতে ক্যাভনয়েড নামক শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা হৃদ রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।

কলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখেঃ

রক্তনালীর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে প্রতিদিনের পান করা এক কাপ কফি। চা বা চকোলেটের চেয়ে কফিতে অধিক পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে। এ ক্যাফেইন রক্তের এলডিএল (ক্ষতিকারক কলেস্টেরল) কমাতে এবং এইচডিএল (উপকারী কলেস্টেরল) বৃদ্ধি করতে ভূমিকা রাখে।

মেটাবলিক সিন্ড্র্রোমের ঝুঁকি কমায়ঃ

মেটাবলিক সিন্ড্রোম বলতে বহিঃস্থুলতা (অতিরিক্ত কোমরের মাপ) ইনসুলিন রেজিষ্ট্রান্স উচ্চ রক্তচাপ গ্লুকোজ অসহিষ্ণুতাকে বুঝায়। এর যে কোনো একটি বা সমন্বিত ভাবে হৃদরোগ, স্ট্রোক বা অন্যান্য কার্ডিও ভাস্কুলার রোগ ঘটাতে পারে। নিয়মিত কফি পানে রক্তের কলেস্টেরলের উন্নতি, দৈহিক কাঠামোর উন্নতি ফলস্রুতিতে মেটাবলিক সিন্ড্রোমের উন্নতি ঘটতে পারে।

খাদ্যের বিপাকীয় কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ

কফি নিয়মিত ভাবে খাদ্যের বিপাকীয় ক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে এবং যাদের হজমজনিত সমস্যা আছে তাদের জন্য কফি উপকারী। বিশেষ করে যাদের দিনে কয়েকবার মল ত্যাগ করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে, তাদের ক্ষেত্রে কফি পান অতি দ্রুত দৃশ্যমান উন্নতি ঘটাতে পারে।

কফি পানের অপকারিতা

হার্টের জন্য ভালো নয়

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে ক্যাফেইন হৃদপিণ্ডের রক্তসরবরাহকরী ধমনীতে রক্ত চলাচল ধীর করে দেয়। বিশেষ করে যখন বেশি দরকার, যেমন: ব্যায়ামের সময়। তাছাড়া বুকধড়ফড়ানি, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা উচ্চ রক্তচাপের জন্যেও শরীরের অতিরিক্ত ক্যাফেইন দায়ী।

ঘুমের ব্যঘাত

এক কথা অনেকেই জানেন, চা বা কফি খেলে ঘুম কম হয়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যারা দিনে তিন কাপের বেশি এই পানীয় পান করেন তাদের শান্তির ঘুম খুব কমই হয়। আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ক্যাফেইন গ্রহণ করেন না তাদের থেকে এই পানীয় পানকারীদের ৭৯ মিনিট কম ঘুম হয়। তাই ঘুমের সমস্যা থাকলে কফিকে না বলুন।

চিনির সঙ্গে আত্মিয়

যদিও অনেকে চিনি ছাড়া কফি পান করেন। তবে এই পানীয়র সঙ্গে কেক, বিস্কুট বা সকালের নাস্তার অনেক পদেই থাকে চিনি। সবমিলিয়ে দেখা যায়, সারা দিনে হয়তো ১১ টেবিল-চামচ চিনি খাওয়া হয়ে যাচ্ছে। তাই যারা ওজন কমানোর চেষ্টায় আছেন, তাদের চেষ্টা তখন বিফলে যাবে।

মেজাজের জন্য খারাপ

ক্যাফেইন শরীরের অ্যাড্রেনালিন নামক একধরনের হরমোনের মাত্রা বাড়ায়। যে কারণে শরীরের টানটান উত্তেজনা বা ঘাবড়িয়ে যাওয়ার অনুভুতির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

সন্তান ধারণে অক্ষমতা

দৈনিক পাঁচ কাপের বেশি কফি খেলে গর্ভধারণের ক্ষমতা কমে যেতে পারে। যদি মা হতে চান, তবে অবশ্যই এই পানীয় খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। আর গর্ভধারেণের পর এই পানীয় বাদ দিন। কারণ দৈনিক ২০০ মি.গ্রাম ক্যাফেইন শরীরে গেলে গর্ভের শিশুর ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি জন্মক্রটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অস্ট্রেলিয়ার স্নায়ুবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যাঁরা হরমোনের সমস্যায় ভুগছেন তাঁদের কফি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। তাঁদের মতে, এই পানীয়র মধ্যে থাকা ক্যাফেইন কিছু হরমোন ক্ষরণে ব্যাঘাত ঘটায়। এর ফলে শরীরে বিভিন্ন জটিল সমস্যা সৃষ্টি হয়।

তথ্যঃ উইকিপিডিয়া

এর কফি ঘরে ঢুকবেন?